দস্যু দমনে সুন্দরবনে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফায় কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর অভিযান। সোমবার (২ মার্চ) দুপুর থেকে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে এ অভিযানে নেমেছে কোস্ট গার্ড, র্যাব, নৌবাহিনী ও পুলিশ। অভিযান চলবে পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগেও।
পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবন জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ১০/১২টি দস্যু বাহিনী। এসব দস্যু বাহিনী প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিপণের দাবিতে জেলেদের অপহরণ করছে। যারা মুক্তিপণ দিচ্ছে তারা ছাড়া পাচ্ছে। আর মুক্তিপণ দিতে না পারায় অনেক জেলে এখনও বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর কাছে জিম্মি রয়েছেন।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক বলেন, গত ২৪ ফ্রেব্রুয়ারি প্রথম দফায় দস্যু দমনে অভিযান চালানো হয়। এরপর ২ মার্চ থেকে দ্বিতীয় দফায় ফের যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। দস্যুতা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
আরও পড়ুন
মন্ত্রীর নির্দেশনার পরও এগোচ্ছে না প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষা
বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের ভিসা জটিলতা নিরসনে ‘বিশেষ সেল’
যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মোল্লা মাহমুদ আল হোসাইন বলেন, নৌ টহল পরিচালনার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় স্থল টহলও বাড়ানো হয়েছে। দস্যুদের সম্ভাব্য অবস্থান ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় জেলে ও বনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে, যাতে তারা যে কোনো সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত কোস্ট গার্ডকে জানাতে পারেন। সোমবার নতুন করে দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া এ অপারেশনে রাত পর্যন্ত কোনো দস্যু আটক বা গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের জেলেদের জীবন-জীবিকা নির্বিঘ্ন করতে যে কোনো মূল্যে দস্যুতা দমন করা হবে। দস্যু দমন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত পত্র/আদেশ পাঠানো হয়েছে। আশা করছি প্রশাসনের কঠোর তৎপরতায় শিগগির সুন্দরবনের দস্যুতা দমন করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের দস্যুদের এবার আর আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবু হোসাইন সুমন/কেএসআর