Type Here to Get Search Results !

সিলেটে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা পাম্প মালিকদের

সিলেটে পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও বিপণন নীতি পরিবর্তন না করলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন পাম্প মালিকরা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় শাখার নেতারা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনে সিলেটের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মালিক ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ একটি পাম্পে এক শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। সারাদিন রোজা রেখে হাজারো মানুষকে সেবা দেওয়ার পরও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে শ্রমিকদের আবেগ ও ক্ষোভ থেকে মঙ্গলবার এক শিফট কর্মবিরতি পালন করা হয়। তবে বিকেল থেকে যেসব পাম্পে তেল মজুত ছিল, সেগুলোতে আবার বিক্রি শুরু হয়।

জ্বালানি বিক্রির নীতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাসকে ৩০ দিন ধরে গড় নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে অনেক পাম্পে মাসে ২০-২২ দিন তেল উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি বিপণন কোম্পানিগুলোকে দৈনিক কোটা বেঁধে দেওয়ায় পাম্পগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম তেল পাচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় ও কমিশনের হিসাব মিলছে না।

সিলেটেই গ্যাস ফিল্ডের কন্ডেনসেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হয় জানিয়ে সংগঠনের নেতারা বলেন, দেশে অকটেন ও পেট্রোলের ঘাটতি নেই। কিন্তু বিপণন নীতিমালার কারণে ডিপোতে মজুত থাকলেও পাম্পে সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ পাম্প মালিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

পাম্প মালিকরা জানান, তারা কোনো ধরনের মজুদদারি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নন। কেউ নির্ধারিত দামের বেশি দামে তেল বিক্রি করলে সংগঠন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেবে। তাদের দাবি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) দ্রুত নীতিমালা সংশোধন করে মাঠের বাস্তবতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে তেল বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন আট থেকে ১০ লাখ লিটার ডিজেল, প্রায় দুই লাখ লিটার পেট্রোল এবং দেড় লাখ লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এর তুলনায় অনেক কম সরবরাহ হচ্ছে। নীতিমালা সংশোধন না হলে পাম্প খোলা থাকলেও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করা হবে না। এতে বিপণন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করার চেষ্টা করা হবে।

উল্লেখ, সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিলেট নগরীর চৌকিদেখী এলাকার উত্তরা পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে পাম্পের কর্মীকে ছুরিকাঘাত করেন এক গ্রাহক। আহত কর্মীর নাম মিঠু গোয়ালা। ছুরিকাঘাতের পর তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

একিউএফ



Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.