Type Here to Get Search Results !

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ: ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণে রুল

ভুল চিকিৎসায় মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো. সামসুদ্দোহা শিমুলের মৃত্যুর ঘটনার অভিযোগে পরিবারকে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে মরহুমের স্ত্রী সায়মা সুলতানার দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার (১১ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে এদিন রিট পিটিশনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অমিত দাশ গুপ্ত ও মো. শাহেদ খান ইয়াকুব।

রিট আবেদনে ‘মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালকের মৃত্যু: ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মামলা’ শিরোনামে গত ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করেন নিহতের স্ত্রী।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট অমিত দাশ গুপ্ত ও মো. শাহেদ খান ইয়াকুব জাগো নিউজকে জানান, রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মরহুমের পরিবারকে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো. সামসুদ্দোহা শিমুল ভুল চিকিৎসায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ এনে দুজন চিকিৎসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তার পরিবার।

২০২৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার কলাবাগান থানায় এই মামলা করেন সামসুদ্দোহা শিমুলের ভাগনে রিয়াজ ইসলাম।

মামলার আসামিরা হলেন কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নার্সিং হোম হাসপাতালের চিকিৎসক জাহীর আল আমিন, ইফতেখারুল কাওছার, হাসপাতালের চেয়ারম্যান কবির আহামেদ ভূঁইয়া এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সামিয়া ইসলাম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, নাকের হাড় বেড়ে যাওয়া–সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট বিকেলে সামসুদ্দোহা কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নার্সিং হোম হাসপাতালে চিকিৎসক জাহীর আল আমিনের অধীন ভর্তি হন। ওই দিন রাত সোয়া ১১টার দিকে তাকে নাকের হাড় অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। রাত সোয়া ১টার দিকে জানানো হয়, সামসুদ্দোহা মারা গেছেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, সামসুদ্দোহার অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা ছিল না। তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করতেন। অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে যাওয়ার আগেও তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেছেন।

সামসুদ্দোহার স্ত্রী সায়মা সুলতানা বলেন, সামসুদ্দোহা শিমুল একজন সুস্থ-সবল মানুষ ছিলেন। একটি ছোট অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে তাকে (সামসুদ্দোহা) মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি হত্যার বিচার দাবি করেন।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে দুই চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহত সামসুদ্দোহার পরিবার। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কমফোর্ট হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক সেলিম সরকারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে বিষয়বস্তু উল্লেখ করে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি বক্তব্য দেননি।

এফএইচ/এমএমকে



Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.