তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ওপর অনাস্থা জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে সাধারণ সদস্যদের একটি অংশ। এই সদস্যরা স্মারকলিপি দিয়ে কমিটি ভেঙে দিতে বর্তমান পর্ষদকে চাপ দেয়। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনায় বেশ হট্টগোল হয়।
বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সাধারণ সদস্যদের ব্যানারে সংগঠনটির নির্বাচন কেন্দ্রীক জোট ফোরামের নেতা-কর্মীরাই মূলত স্মারকলিপি দেন।
পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, দেশের অর্থনীতি যখন নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তখন বিজিএমইএর বর্তমান বোর্ড দখলের চেষ্টা চালিয়েছে ফোরাম প্যানেলের একদল সদস্য এবং অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।
এতে বলা হয়, এই ভয়াবহ ঘটনা কলঙ্কিত করেছে দেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতকে। সমসাময়িক ঘটনা আমলে নিয়ে যখন নতুন রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে তখনই এ ধরণের ঘটনা ঘটলো। অপরাধীদের সহিংস আচরণে লিপ্ত হতে দেখা গেছে। যার মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা গেট ভেঙে ফেলা, মুষ্টিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং বেআইনিভাবে বর্তমান বোর্ডের অধিগ্রহণ দাবি করা।
এতে বলা হয়, এই সহিংসতার প্রত্যক্ষদর্শী কর্মী এবং বোর্ড সদস্যরা হতবাক অবস্থায় রয়েছেন। তাছাড়া সেখানে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলি যা একাধিক সাধারণ সদস্যকে ক্ষুব্ধ করেছে বিজিএমইএ। আমরা এই ধরনের নৃশংস আচরণের নিন্দা জানাই।
জানা গেছে, বুধবার পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন গত মার্চে অনুষ্ঠিত বিজিএমইএর নির্বাচনে ফোরামের দলনেতা ফয়সাল সামাদ ও ওয়েগা নিটেক্সের চেয়ারম্যান মেসবাহ উদ্দিন আলী। বুধবার বেলা ২টার দিকে সাধারণ সদস্যদের ব্যানারে ফোরামের শতাধিক নেতা-কর্মী স্মারকলিপি দিতে বিজিএমইএ কার্যালয়ে যান। প্রধান ফটকে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। তখন তারা ‘সভাপতি কই’, ‘এমন বিজিএমইএ চাই না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। তবে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম তাদের স্বাগত জানান।
কার্যালয়ে প্রবেশ করার পর সভাকক্ষে সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বর্তমান পর্ষদের কিছু সদস্য। শুরুতেই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি আবদুল্লাহ হিল রাকিবসহ পর্ষদের অন্যদের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন ফয়সাল সামাদ ও মেসবাহ উদ্দিন।
স্মারকলিপিতে বিজিএমইএর সাধারণ সদস্যরা দাবি করেন, বিজিএমইএর সভাপতি এস এম মান্নান ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার সন্ত্রাসী বাহিনী কোটা সংস্কার আন্দোলনে উত্তরা ও মিরপুরে দমন-পীড়নে অংশ নেয়। এস এম মান্নান মার্চে প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। সেই নির্বাচনে ভোট চুরির ঘটনা ঘটে। চলমান ছাত্র আন্দোলনে কয়েকশ মানুষ নিহত হওয়ার পরও বর্তমান পর্ষদ কিংবা সভাপতি কোনো শোক বার্তা দেননি। এমনকি গত কয়েক সপ্তাহে বিজিএমইএর মূল দায়িত্ব ব্যবসা পরিচালনায় কার্যকর নির্দেশনা দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলন ও গণজোয়ারে বর্তমান সভাপতি ও পর্ষদের সদস্যরা বিপরীতমুখী ভূমিকা পালন করায় তারা দায়িত্ব পালনে নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন।
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সহসভাপতির সঙ্গে আলোচনায় সাধারণ সদস্যরা বিজিএমইএর সংস্কার দাবি করেন। তারা বলেন, বিজিএমইএকে দুর্নীতির আখড়া বানানো হয়েছে। সাধারণ সদস্যদের মূল্যায়ন করা হয়নি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্তমান পর্ষদ ভেঙে অন্তর্বর্তীকালীন পর্ষদ গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে তফসিল ঘোষণার দাবি করেন।
জানা গেছ, একপর্যায়ে সাধারণ সদস্যদের কয়েকজন সভাকক্ষে থাকা বিজিএমইএর সাবেক তিন সভাপতি সালাম মুর্শেদী, আতিকুল ইসলাম ও সিদ্দিকুর রহমানের ছবি নামিয়ে ফেলেন।
এসএম/এমআইএইচএস